গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ব্যক্তির নাগরিক অধিকার ও মর্যাদাই মুখ্য

সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই একটি রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক চর্চা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতার মধ্যে। এসব ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে নির্বাচিত সরকারও স্বৈরাচারী, এমনকি ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করতে পারে। বাংলাদেশে কয়েকবার এর নজির আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। ফলে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন ঘটায়নি; বরং রাষ্ট্রের কাঠামো, শাসনব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠনের এক গভীর নাগরিক আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে এসেছে। গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে ব্যক্তির মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও নাগরিক মর্যাদাই মুখ্য।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনটি মূলত দুটি জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে এসেছে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে হাজির হলেও জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট করে নিজস্বতা হারিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর অবকাশ নেই। বরং নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ভর করবে নতুন সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে তার ওপর।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বেলজিয়ান রাজনৈতিক দার্শনিক শাঁতাল মুফের (Chantal Mouffe) রাজনৈতিক তত্ত্ব বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর ‘অ্যাগনিজম’ (Agonism) এবং বামপন্থী পপুলিজম বিষয়ক চিন্তায় গণতন্ত্রকে কেবল নির্বাচন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজনৈতিক মতাদর্শ, আবেগ, পরিচয় এবং সামাজিক দ্বন্দ্বের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়েছে। মুফের মতে, সমাজে বিভিন্ন স্বার্থ ও মতাদর্শের দ্বন্দ্ব অনিবার্য। গণতন্ত্রের কাজ সেই দ্বন্দ্বকে নির্মূল করা নয়; বরং তাকে এমন নিয়মতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার মধ্যে নিয়ে আসা, যেখানে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার শত্রু হিসেবে নয়, গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান থেকে ২০২৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি প্রধান বিভাজন রেখা তৈরি হয়েছে—একদিকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জনগোষ্ঠী, অন্যদিকে বিগত শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শক্তি ও স্বার্থগোষ্ঠী। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক বিভাজনের চরিত্রও পরিবর্তিত হচ্ছে। ভাবা উচিত, গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও মতাদর্শের মানুষের প্রত্যাশা এক ছিল না। কেউ চেয়েছেন গণতান্ত্রিক অধিকার, কেউ অর্থনৈতিক মুক্তি, কেউ দুর্নীতির অবসান, আবার কেউ চেয়েছেন রাষ্ট্র ও সমাজে নিজেদের কট্টর মতাদর্শিক অবস্থানের বিস্তার। অভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে এসব ভিন্ন আকাঙ্ক্ষার মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে ছিল বৈষম্যহীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রের ওপর নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা। জামায়াতে ইসলামীর ৬৮টি আসন লাভ ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য, সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি এবং প্রচলিত রাজনৈতিক অভিজাতদের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে দলটি নিজেদের সমর্থনভিত্তি বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থানকে শুধু ধর্মীয় আবেগের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করলে বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ আড়ালে থেকে যায়। অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, রাজনৈতিক বঞ্চনা এবং প্রচলিত দলগুলোর প্রতি অনাস্থাও এ ধরনের রাজনীতির বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের এসব ক্ষোভ বাস্তব; সেগুলোকে অস্বীকার করে কিংবা সমর্থকদের নির্বিচারে ‘উগ্রপন্থী’ বা ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে জনগণের বৈধ ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ধর্মীয় বা আদর্শিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা, ভিন্নমত দমন কিংবা সংখ্যালঘুদের অধিকার সংকুচিত করার প্রচেষ্টাকেও গণতান্ত্রিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। তাই ধর্মভিত্তিক পপুলিজমের সামাজিক ভিত্তি বোঝার পাশাপাশি তার বর্জনমূলক প্রবণতার সমালোচনাও জরুরি।

তাহলে নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক ডানপন্থী পপুলিজমের রাজনৈতিক প্রভাব কীভাবে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভারসাম্যপূর্ণ করা সম্ভব?

প্রথমত, প্রগতিশীল ও নাগরিক শক্তিকে কেবল সাংবিধানিক সংস্কার, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির কারিগরি ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। রাজনীতি শুধু যুক্তি ও নীতিমালার বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের আবেগ, আশা, ভয়, পরিচয় ও আত্মমর্যাদার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মুফেরের রাজনৈতিক দর্শন আমাদের সেই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়। ধর্মভিত্তিক শক্তি যদি মানুষের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক সংগঠনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে, তবে প্রগতিশীল শক্তিকেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ, বৈষম্যবিরোধী চেতনা, মানবিক মর্যাদা ও নাগরিক অধিকারের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক বয়ান নির্মাণ করতে হবে। তবে সেই বয়ানকে কোনো বিশেষ দলের একচেটিয়া সম্পত্তিতে পরিণত করা যাবে না; বরং তা হতে হবে বহুমত ও বহুপথের মানুষের যৌথ আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ।

দ্বিতীয়ত, জনগণের ক্ষোভ ও অধিকার বঞ্চনার বাস্তব কারণগুলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে আনতে হবে। দুর্নীতি, বেকারত্ব, আয়বৈষম্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তিকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু বক্তৃতায় দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ঘোষণা করলেই চলবে না; দলীয় অর্থায়নে স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে নিজেদের মধ্যেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। জনগণকে বোঝাতে হবে যে, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ওপর নির্ভরশীল নয়; এগুলোর জন্য প্রয়োজন কার্যকর প্রতিষ্ঠান, ন্যায়সংগত নীতি এবং সবার জন্য সমান নাগরিক অধিকার।

তৃতীয়ত, বর্জনমূলক পপুলিজমের বিপরীতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক পপুলিজম গড়ে তুলতে হবে। এমন একটি ‘আমরা’ নির্মাণ করতে হবে, যার ভিত্তি হবে না ধর্ম, বর্ণ, জাতিগত পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্য; বরং সমান অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা। এই রাজনীতিতে শ্রমিক, কৃষক, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নারী, তরুণ এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিজেদের প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পাবে। তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি মানে মতাদর্শগত পার্থক্য মুছে ফেলা নয়। বরং ভিন্ন পরিচয় ও বিশ্বাসের মানুষকে সমান নাগরিক মর্যাদায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। এর মূল প্রতিপাদ্য হবে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় নয়, তার অধিকার ও নাগরিক মর্যাদাই রাষ্ট্রের কাছে মুখ্য।

চতুর্থত, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিকে নিষিদ্ধ করা কিংবা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। কোনো রাজনৈতিক দল আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন; কিন্তু কেবল মতাদর্শগত বিরোধের কারণে কোনো শক্তিকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে উল্টো ফল সৃষ্টি করতে পারে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে ধ্বংসাত্মক শত্রুতার পরিবর্তে নিয়মতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় রূপান্তর করাই গণতন্ত্রের অন্যতম কাজ। অর্থাৎ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার বদলে তাকে সংবিধান, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক অধিকারসম্মত প্রতিযোগিতার কাঠামোর মধ্যে মোকাবিলা করতে হবে। সংসদে ও জনপরিসরে করনীতি, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক ঋণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো বাস্তব বিষয়ে কার্যকর বিতর্কের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির কার্যকারিতা যাচাই করতে হবে।

সবশেষে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু নতুন সরকারের নয়; বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিকদেরও রয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে, তখন তৃণমূল পর্যায়ে জবাবদিহি, স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং কার্যকর সংসদীয় বিরোধিতার গুরুত্ব আরও বাড়বে। গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা কোনো নির্দিষ্ট দলের ক্ষমতায় থাকা কিংবা অন্য কোনো দলকে রাজনীতির বাইরে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর তাৎপর্য হলো, ভবিষ্যতে কোনো সরকারই যেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে নাগরিক অধিকার সংকুচিত করতে না পারে।

বাংলাদেশ আজ একটি দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই অভিযাত্রার সাফল্য নির্ভর করবে ক্ষমতার পালাবদলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরে পরিণত করা, রাজনৈতিক বিরোধকে নিয়মতান্ত্রিক রাখা এবং জনগণের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর। প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি যদি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হয়, তবে সেই শূন্যতা ধর্মভিত্তিক কিংবা অন্য যেকোনো বর্জনমূলক পপুলিজম দখল করতে পারে। অতএব, ফ্যাসিবাদী প্রবণতার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং গণতন্ত্রকে স্থায়ী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রয়োজন এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে অধিকার, প্রতিহিংসার চেয়ে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের চেয়ে নাগরিক মর্যাদা প্রাধান্য পাবে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দিশাও সেখানেই।কফি প্রতিদিনের সংবাদ

Facebook
WhatsApp
Email

সোস্যাল নেটওয়ার্ক

সর্বশেষ সংবাদ