মজুরি বোর্ড গঠনের পরও পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা।
রোববার ( ১ নভেম্বর) রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিয়ে সদস্যদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে এ কথা জানান বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
পোশাকশ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দিনই মালিকদের পক্ষ থেকে এ হুঁশিয়ারি এল।বাংলাদেশ সংবাদ
বিজিএমইএ সভাপতি শ্রমিক সংগঠন ও ফেডারেশনগুলোকে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শ্রমিক বা মালিক, যে পক্ষই আইন নিজের হাতে তুলে নিক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যহীনভাবে আইন প্রয়োগ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের কারণে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিজিএমইএর সদস্যরা উদ্বিগ্ন। নিয়মিতভাবে কারখানা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘সকালে কারখানা খোলা হচ্ছে, কিন্তু এক ঘণ্টা পরই আবার বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। আমরা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।’
বৈঠকে বিজিএমইএর প্রায় ২৩৫ জন সদস্য অংশ নেন। তাদের প্রতিনিধিত্বে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০টি কারখানা রয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পোশাক খাতের শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনকে তাদের সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, শ্রমিক কিংবা কারখানার মালিক, যে কেউ সহিংসতায় জড়িত হলে বা আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হবে, এ বিষয়ে সরকারকে, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে, কঠোর বার্তা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নতুন গঠিত মজুরি বোর্ডের সদস্যদের যৌথভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে শ্রমিক ও শিল্পসংশ্লিষ্ট সবাইকে বোর্ডের কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানোরও প্রস্তাব দেন তিনি।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, শ্রমিক, শিল্প এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ডকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
এদিকে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলমান শ্রম অসন্তোষ ও সহিংসতার কারণে মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৫২৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে।
পোশাক খাতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা যে চাপের মধ্যে আছেন, তা আমরাও উপলব্ধি করি। আবার একই সাথে বৈশ্বিক মন্দা, জ্বালানি সংকট, প্রতিনিয়ত উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং কারখানার রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জগুলোও বাস্তব। তাই শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা আর কারখানা সচল রাখা, দুটিই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, মজুরি বোর্ডে সরকার, মালিক ও শ্রমিক, তিন পক্ষেরই প্রতিনিধি আছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই একটি বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা সম্ভব। আমরা চাই এমন একটি কাঠামো গঠন হোক, যা শ্রমিকের জীবনমান সুরক্ষিত করবে এবং শিল্পের সক্ষমতাও ধরে রাখবে।কফি প্রতিদিনের সংবাদ







