ভালোবাসায় সিক্ত ভাষাশহীদগণ, মুখরিত শহীদ মিনার

মহান ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজারও মানুষের ঢল নেমেছে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল হাতে দলে দলে মানুষ এসে হাজির হয়েছেন শহীদ বেদীতে।

রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের সামরিক সচিবেরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এরপর রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দল ও সংস্থার ব্যক্তিবর্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে সাধারণ মানুষের জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ খুলে দেওয়া হয়। করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সারিবদ্ধভাবে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফিরে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

প্রথম প্রহরে ফুল দেওয়ার জন্য ছাত্র-জনতা ব্যানার, পোস্টার, ফুলের তোড়া নিয়ে নির্দেশিত রুটম্যাপ অনুযায়ী পলাশীর মোড় হয়ে জগন্নাথ হলের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনারের মূল ফটক খুলে দিলে দলবদ্ধ ও এককভাবে শহীদ মিনারে প্রবেশ করে তারা।

এর আগে ১২টা ১ মিনিটে অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এসময় বিউগলে বেজে উঠে রক্তে শিহরণ তোলা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের সুর। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবরা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

১৯৫২ সালের এ দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করলে ছাত্র-জনতা তা ভঙ্গ করে মিছিল নিয়ে রাজপথে নামে। সেই মিছিলে গুলি চালালে সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ বীর শহীদদের রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ। মহান সেই ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণেই নির্মিত হয় শহীদ মিনার। প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে এসে শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানায় গোটা জাতি।

Facebook
WhatsApp
Email