নৌকা পেয়ে পরাজিত হওয়ায় আ’লীগ প্রার্থী রোষানলের শিকার

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে আটিয়া ইউনিয়নে আ’লীগের পরাজিত প্রার্থী কৃষ্ণকান্ত দে সরকার দলীয় সর্মথকদের রোষানলের শিকার হয়েছেন। রোববার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার ছিলিমপুর বেবিস্ট্যান্ডে এ রোষানলের শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে কৃষ্ণক্রান্ত দে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আহত কৃষ্ণকান্ত আটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক।

জানা যায়, গত ১৫ জুন সম্পন্ন হওয়া উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে কৃষ্ণকান্ত দে সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন(ঘোড়া) প্রতীকের নিকট ২১০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এ নিয়ে কৃষ্ণকান্ত দে দলীয় কোন্দল ও শৃঙ্খলার অভাবকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উস্কানীমূলক একাধিক স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। রোববার (২৬ জুন) বিকেলে কৃষ্ণকান্ত টাঙ্গাইল শহর থেকে ফেরার পথে দেলদুয়ার উপজেলার ছিলিমপুর বেবিস্ট্যান্ডে পৌছালে তার উপর হামলা করা হয়।

কৃষ্ণক্রান্ত দে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান কাঠের লাঠি দিয়ে এলোপাথারী পেটাতে শুরু করে। এসময় হাবিবের সঙ্গে তার সহযোগী কামরুজ্জামান কফি, ওহাব ও আটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম মন্টুর ভাই কাওছারও মারপিট শুরু করে। চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাতেই মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে কৃষ্ণক্রান্ত দে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মিরা জানান, নৌকা প্রতিক পাওয়ার পরই প্রার্থী কৃষ্ণকান্তদের মধ্যে এমন মনোভাব সৃষ্ঠি হয় যেন ভোট ছাড়াই চেয়ারম্যান হয়ে গেছেন। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ইউনিয়নের দলীয় নেতাদের সাথে সলাপরামর্শ না করেই নির্বাচন পরিচালনা করছেন। এ কারনে ব্যপক ভোটের ব্যবধানে নৌকা পরাজিত হয়। দলীয় প্রতিক নৌকা নিয়ে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মিদের মধ্যে দুঃখ ও ক্ষোভের জন্ম নেয়। সেই ক্ষোভের কারনে দলীয় সর্মথকরা সামান্য নাজেহাল করেছে মাত্র। মারপিটের কোন ঘটনা ঘটে নাই।

দেলদুয়ার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন শিবলী সাদিক জানান, কৃষ্ণকান্ত দে নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে নিয়ে ফেইসবুকে স্টেটাস দিলে এ অনাঙ্কাখিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান,দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রকাশ, দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে কৃষ্ণকান্ত দে নৌকা প্রতিক, সাজ্জাদ হোসেন আজাদ সতন্ত্র ঘোড়া প্রতিক, মো. হুমায়ন (হুন্ডা) প্রতিক, মালেক ফরাজি (চশমা) প্রতিক ও ইঞ্জিনিয়ার শাজাহান (আনারস) প্রতিকে নির্বাচন করেন। সতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন ৫৫০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

কামরুল হাসান

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

← Back

Thank you for your response. ✨

Facebook
WhatsApp
Email