নিজস্ব প্রতিবেদকঃ১৯সেপ্টেম্বর
চট্টগ্রামে গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে যাত্রী অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় এই অভিযোগ করেন সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। এ সময় ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ‘যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধের পদক্ষেপ চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মোকতার উদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।
সভায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, লকডাউন পরবর্তী চট্টগ্রামের বিভিন্ন গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রারি আরও এক দফা বেড়েছে। এখানে শহরতলীতে বসবাস করে তারা প্রতিদিন এই নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে। এখানে সকালে এক ভাড়া, বিকেলে এক ভাড়া, রাত হলে আরেক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টি হলে আরেক ভাড়া আদায় করা হয়।
অতীতে চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রতিটি উপজেলায় যাতায়াতের বাস নেটওয়ার্ক ছিল। এসব নৈরাজ্যের হাত প্রসারিত করার সুদূর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে সব বাস নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও টুকটুকি এখন চট্টগ্রামের প্রধান বাহনে পরিণত হয়েছে। এসব বাহনে আরামদায়কভাবে যাতায়াত করা যায় না। কিন্তু, ভাড়া গুনতে হয় কয়েকগুণ বেশি। যত্রতত্র পার্কিং, যানজট, জলজট ও দুর্ঘটনা প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে এসব বাহন।
তিনি অনতিবিলম্বে এসব ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে মানসম্মত ৪০০ নতুন বাস নামানোর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানান।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ন্যায্য ভাড়ায় সঠিক সময়ে দুর্ঘটনামুক্তভাবে যাতায়াতের অন্যতম অধিকার। যানবাহনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, শ্রেণি বৈষম্য এবং রাস্তাঘাটে নির্বিঘ্ন চলাচলে আইনে বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতায় যাত্রী অধিকার ভুলণ্ঠিত হচ্ছে।
যাত্রীকল্যাণ সিমিতি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ইমতিয়াজ আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বারভিডার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেলা পরিষদ সদস্য জাফর আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবেশবিদ ড. ইদ্রিস আলী, যাত্রী কল্যাণ সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. রাজা মিয়া, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এসএম নুরুল আমিন, সহ-সভাপতি সাংবাদিক ওসমান জাহাঙ্গীর প্রমুখ।







