ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম ১০ রুপি হলেও নেই ক্রেতা

ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এমএমটিসি’র মারফত তুরস্ক, মিশর, মিয়ানমার ইত্যাদি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি ওই সংস্থাটি এ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানিতে প্রায় ২২৬ কোটি রুপি খরচ করেছে, কিন্তু ভারতেরই বিভিন্ন রাজ্যের কাছে তারা মাত্র ১৮ কোটি রুপির পেঁয়াজ বিক্রি করতে পেরেছে।

এমএমটিসি সূত্রগুলো বলছে, এখন পর্যন্ত মোট আমদানির মাত্র আট শতাংশ বিভিন্ন রাজ্য সরকার কিনেছে, বাকি পেঁয়াজ অবিক্রিতই থেকে গেছে! ভারতের খুচরো বাজারেও এরই মধ্যে পেঁয়াজের দাম অনেকটা কমে এসেছে। ফলে আমদানি করা এসব পেঁয়াজ অবিক্রিত রয়ে গেছে।

বিদেশ থেকে আমদানি করা এসব পেঁয়াজ রাজ্যগুলোর কাছে বিক্রি করতে না পেরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এখন প্রতি কেজি মাত্র দশ রুপিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারের আশঙ্কা, দ্রুত এই পেঁয়াজগুলোর বিক্রি করতে না পারলে মুম্বাইয়ের জহরলাল নেহরু পোর্টের গুদামেই এই পেঁয়াজের চালানগুলো নষ্ট হবে।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা দ্য মেটালস অ্যান্ড মিনারেলস ট্রেডিং কর্পোরেশন (এমএমটিসি) বিদেশ থেকে এই পেঁয়াজ আমদানির দায়িত্ব পেয়েছিল। তারা এখন এই পেঁয়াজের ই-অকশন বা ইলেকট্রিনিক নিলামের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এর জন্য টেন্ডারও তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

দিল্লিতে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাত্র দুসপ্তাহ আগেও এই পেঁয়াজের জন্য রাজ্যগুলোর কাছে ৪৮ থেকে ৫৪ রুপি প্রতি কেজি দাম চাওয়া হয়েছিল। ভারতে পেঁয়াজের বাজারে আগুন গত প্রায় ছমাস ধরেই। কিন্তু এখন পেঁয়াজের মানভেদে মাত্র ১০ থেকে ২৫ রুপি দাম পেলেই এমএমটিসি এই পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে প্রস্তুত।

ভারতে খোলা বাজারে যে পেঁয়াজ অক্টোবর-নভেম্বর দেড়শো রুপি কেজিতেও বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন পঞ্চাশ রুপি বা তারও নিচে নেমে এসেছে। ই-কমার্স গ্রোসারি সাইটগুলোতেও রাজধানী দিল্লিতে মাত্র ৫৬ রুপি কেজিতে পেঁয়াজ ঘরের দরজায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এখনও জারি রাখলেও মুম্বাইয়ের বন্দরে পড়ে থাকা পেঁয়াজের চালান থেকেই স্পষ্ট, পেঁয়াজের ঝাঁজ ভারতকেও মহা অস্বস্তিতে ফেলেছে

Facebook
WhatsApp
Email