জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল (OCP) আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবায় একটি বহুল ব্যবহৃত ও নিরাপদ পদ্ধতি। তবে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক নারী পিল ব্যবহার করলেও এটি নিয়ে কিছু প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ও সামাজিক ভীতি এখনো রয়ে গেছে। পিল সেবন করলে শরীর মোটা হয়ে যায় কি না এবং পরবর্তীতে মা হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা বা বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি হয় কি না এ দুটি প্রশ্ন বহু নারীর মনেই দেখা দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা অনুসারে এসব বিষয়ে স্পষ্ট ও বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া গেছে।
পিল খেলে কি ওজন বৃদ্ধি পায় বা নারী মোটা হন?
চিকিৎসকদের মতে, পিল খেলে নারী স্থায়ীভাবে মোটা হয়ে যান এই কথাটি একটি অন্যতম প্রচলিত ভুল ধারণা। চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক পিলের সঙ্গে স্থায়ী ওজন বৃদ্ধির কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
তবে পিল সেবনের প্রথম এক থেকে তিন মাস শরীরে কিছু সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পিলে থাকা ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে শরীরে সাময়িকভাবে পানি জমতে (Water Retention) পারে। এর ফলে প্রাথমিক অবস্থায় স্তনে কিছুটা ভারি ভাব বা শরীরে ফোলাভাব তৈরি হতে পারে, যা অনেকে ওজন বৃদ্ধি বলে মনে করেন। তবে এটি শরীরের মেদ বা চর্বি বাড়ার কারণে হয় না। সাধারণত কয়েক মাস সেবনের পর শরীর পিলের হরমোনের সমন্বয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিলে এই সমস্যা আপনাতেই সেরে যায়।
পূর্বে ব্যবহৃত পুরোনো প্রযুক্তির হাই-ডোজ পিলগুলোতে হয়তো সামান্য ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা থাকত, কিন্তু বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য লো-ডোজ (Low-Dose) কম্বাইন্ড পিলগুলোতে এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রায় নেই বললেই চলে।
ভবিষ্যতে মা হতে বা গর্ভধারণে কি কোনো সমস্যা হয়?
পিল খেলে ভবিষ্যতে মা হওয়া নিয়ে যে শঙ্কা দেখা যায়, সেটিকেও চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবনের ফলে স্থায়ী কোনো বন্ধ্যাত্ব তৈরি হয় না।
পিল মূলত একটি সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। এটি গ্রহণের সময় ডিম্বাশয় (Ovary) থেকে সাময়িকভাবে ডিম্বাণু নিঃসরণ বন্ধ থাকে। পিল সেবন বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসে এবং ডিম্বাশয় থেকে পুনরায় নিয়মিত ডিম্বাণু নিঃসৃত হতে শুরু করে। বেশিরভাগ নারী পিল খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার প্রথম মাসেই বা সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় স্বাভাবিক প্রজননক্ষমতা ফিরে পান এবং স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করতে সক্ষম হন।
তবে পিল খাওয়া বন্ধ করার পরও যদি কারও গর্ভধারণে দীর্ঘ সময় সমস্যা হয়, তবে বুঝতে হবে তা পিলের কারণে নয়; বরং অন্য কোনো শারীরিক বা হরমোনজনিত জটিলতার কারণে হচ্ছে, যা হয়তো আগে থেকেই শরীরে বিদ্যমান ছিল।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো ধরনের পিল সেবন শুরু করার আগে নিজের মনমতো বা ফার্মেসি থেকে শুনে না কিনে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যাদের বয়স ৩৫ বছরের বেশি, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, মাইগ্রেন বা রক্ত জমাট বাঁধার মতো শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশিত পদ্ধতি অনুসারেই পিল বা অন্য কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নির্বাচন করা নিরাপদ।কফি আমার সংবা
কফি আমার সংবা







