বাংলাদেশ , সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণে বলেন’কন্যা ওয়ারিশরা যেন পুত্র সন্তানের ন্যায় সমান ভাগ পায়”

লেখক : ajkersottasangba | প্রকাশ: ২০১৯-০৮-১১ ১২:২৬:১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী দাদার সম্পত্তির বিষয়ে বাবা গত হলে তার কন্যা ওয়ারিশরা যেন পুত্র সন্তানের ন্যায় অংশ ভাগ পায় সেটা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে দৃষ্টি দেয়ার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিচারপতি এবং বিচারকদের উদ্দেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এইক্ষেত্রে আমাদের সামনে বিচারপতি বা অন্য সকলে রয়েছেন তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো। হ্যাঁ, আমাদের ইসলাম ধর্ম বা মুসলিম আইন (শরিয়া আইন) মানতে হবে, এটা ঠিক। কিন্তু কেবল শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে মা-মেয়েকে বঞ্চিত করে বাবার সম্পদ যে তাদের কাছ কেড়ে নেয়া হয় তার কোন সুরাহা করা যায় কি না- আপনারা দয়া করে একটু দেখবেন। এটা করা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবেও অনেক সামাজিক অনাচার হচ্ছে। এখানে মেয়েরা বঞ্চিত হচ্ছে, অথচ আমরা শ্লোগান তুলি যে দু’টি সন্তানই যথেষ্ট। এখন দু’টি সন্তানই যদি মেয়ে হয়। তখন বাবার সম্পত্তির ভাগ স্ত্রী পাবে যতটুকু, মেয়ে ততটুকু পাবে বা বঞ্চিত হবে, এখানে কিভাবে এর সুরাহা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি শরিয়া আইনে হাত দিতে বলবো না। কিন্তু সম্পত্তি আইনেতে তো এটার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে মেয়ে-ছেলে না লিখে যদি সন্তান লিখে দেয়া যায় তাহলে সন্তান ছেলেই হোক আর মেয়েই হোক তাঁর ভাগটাতো অন্তত সে পাবে। এরজন্য একটা উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’

আশংকা ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা বলতে গেলে অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ এবং মওলানাগণ এর বিরোধীতাও করতে পারেন। তবে, তিনি এ বিষয়টিতে আমাদের অনেক ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেছেন। যাঁরা এই মেয়েদের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। দেখা গেছে, তাদের অনেকেরই ওয়ারিশ কেবল কন্যা সন্তান বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনমন্ত্রীসহ সকলকেই এ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়ার আহবান জানান তিনি- ‘যাদের ওয়ারিশ হিসেবে কন্যা সন্তান রয়েছে তারা আমৃত্যু যেন সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন এবং তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের কন্যারা যেন পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর নিজের অধিকার পায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও ইসলাম একমাত্র ধর্ম যেখানে বাবা-মা মারা গেলে কন্যা সন্তানকে তাদের সম্পত্তির অধিকার দেয়া হয়ে থাকে। তারপরেও তারা অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়। কারণ, ভাইয়েরা দিতে চায় না।

তিনি বলেন, এমনও ঘটনা আমি দেখেছি ভাই ভাইকে খুন করেছে বা আত্বীয়-স্বজনেরা খুন করে সম্পত্তি দখল করে নিয়ে ভাইয়ের ছেলে-মেয়ে, স্ত্রীসহ তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তাদের স্থান হয়েছে বস্তিতে। ছেলে-মেয়েরা হয়ে গেছে টোকাই আর মহিলা হয়তো বাড়ি বাড়ি কাজ করে খাচ্ছে বা তার ঠাঁই হয়েছে কোন পতিতালয়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সামাজিক অবিচার যেন বন্ধ হয়, এগুলোর দিকেও আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। অনেক অর্থ সম্পদশালী তাদেরও আমি দেখেছি ভাই মারা গেছে, ভাইয়ের ছেলে নেই, কিন্তু মেয়ে রয়েছে। দেখা গেল, তারা যেই বাড়িটাতে থাকছে সেটা মা বাবা’র নামে জমি থাকলেও বাড়িটি ঐ মৃত ভাই-ই তৈরী করে দিয়ে গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সম্পদশালী ভাই ছুটে আসে ঐ সম্পত্তিটা দখল করতে। ঐ মেয়েরা যেটুকু আইনগতভাবে পাবে তার বেশি এক কানা কড়িও দেবে না। মৃত ভাইয়ের ঐ সম্পত্তিটুকু নিতে হবে।

তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারেরও এক্ষেত্রে উদাহারণ টেনে বলেন, অনেক শহীদ বুদ্ধিজীবীর কন্যা সন্তানেরা তাদের বাবা চলে যাওয়ায় সম্পত্তির যথাযথ ভাগে বঞ্চিত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিজীবীর একমাত্র সন্তান কন্যা। অথচ ভাইটিকে পাকিস্তানী রাজাকার-আলবদরেরা নির্মমভাবে খুন করার পরে সেদিকে নজর না দিয়ে ভাইয়ের সম্পত্তিটুকু দখল করে তাঁর স্ত্রী এবং মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার প্রবনতাও আমরা লক্ষ্য করেছি।

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের স্বৈর শাসক আইয়ুব খানের করে যাওয়া একটি আইনের উদাহারণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন যে, আইয়ুব খান একটি আইন করে যান-আগে আমাদের শরিয়া আইনে ছিল যে, বাবার সামনে ছেলে মারা গেলে মৃত ছেলের সন্তানরা কোন সম্পত্তির ভাগ পেত না। সেই আইনটি আইনগত ভাবে আইয়ুব খান একটি সংশোধনী এনে মৃত বাবার সন্তানরা যেন সম্পত্তির ভাগ পায় সেই ব্যবস্থাটা করে দিয়ে যান। তা নাহলে দেখা যেত কত পরিবার একবারে অসহায় হয়ে যেত।

মানুষের নিষ্ঠুরতার শিকার মানুষই হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি আপোষ-মীমাংসার অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। যাতে করে মৃত পিতার পরিবারের মেয়েরা সম্পদের যথাযথ ভাগ পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরে জাতির পিতা বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদায় উন্নীত করেন। জাতিকে উপহার দিয়েছেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সাম্য ও ন্যায়বিচারের এক অনন্য দলিল- বাংলাদেশের সংবিধান।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের উন্নয়নের জন্য তিনি বলেছিলেন-‘এই বিচার বিভাগকে নতুন করে এমন করতে হবে, যেন মানুষ এক বছর দেড় বছরের মধ্যে বিচার পায় তার বন্দোবস্ত করতেছি, আশা করি সেরকমই হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর থেমে যায় সবকিছু।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে খুন, অগ্নি সন্ত্রাস, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা এবং ধর্ষণের মত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুন,অগ্নি সন্ত্রাস, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা ধর্ষণ ও নানা ধরনের সামাজিক অনাচার চলছে-এগুলোর বিচার যেন খুব দ্রুত হয়, এদের কঠোর শাস্তি হয়। যাতে এর কবল থেকে দেশ ও জাতি রক্ষা পেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এমন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এমন একটি সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই যেখানে ধনী, দরিদ্রের কোন বৈষম্য থাকবে না। জনগণ মৌলিক অধিকারসমূহ ভোগ করে নিজেরা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই প্রতিটি মানুষ ন্যায় বিচার পাক এবং সেই ব্যবস্থাটা যেন চালু হয়। কারণ, আমরা চাই না ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের কারণে, আমরা যেমন বিচার না পেয়ে কেঁদেছি আর কাউকে যেন এভাবে কাঁদতে না হয়। সকলে যেন ন্যায় বিচার পেতে পেতে পারে সেটাই আমরা চাই ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক মামলার দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। অনেকে বছরের পর বছর কারাগারে আটকে রয়েছে, কেন যে আটকে রয়েছে তারা নিজেরাও জানে না। তাদের দোষটা যেমন কেউ কেউ জানে না না তেমনি কিভাবে আইনগত সহায়তা নিতে পারে তাও জানা নেই। সেই বিষয়টা দেখার জন্য আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আমার মনে হয়, আইন মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

আইন, বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এএসএসএম জহুরুল হক এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদানকারি সংস্থার পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মানিকগঞ্জ এবং কুমিল্লার দু’জন উপকারভোগীও অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যাক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০১৯’ উপলক্ষ্যে বেসরকারী সংস্থা, প্যানেল আইনজীবী এবং লিগ্যাল এইড- এই তিনটি ক্যাটাগরিতে বিশেষ সম্মাননা প্রাপ্তদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম করার লক্ষ্যে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ প্রণয়ন করে। এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এ কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে এবং ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে পুনরায় সরকারি আইনি সেবা কার্যক্রমের উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়।

তার সরকার জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অফিস স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, সকল জেলাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের চৌকি আদালতগুলো এবং শ্রম আদালতসমূহে আইনগত সহায়তা দিতে বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনগত সহায়তা কমিটি গঠিত হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টেও অসহায়, দুঃস্থ বিচারপ্রার্থীগণ সরকারি আইনী সেবা পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক জেলায় স্থায়ী ‘লিগ্যাল এইড অফিস’ স্থাপন করেছি। ৬৪টি ‘জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার’-এর পদ সৃজন করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারকগণকে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা মামলার পূর্বে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের বিরোধ আপোষ‐মীমাংসার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রি-কেইস মেডিয়েশন বা মামলা-পূর্ব বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু করি।’

‘বিগত ১০ বছরে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯০ জনকে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। একই সময়ে এ কার্যক্রমের আওতায় মোট ১ লাখ ৬৬৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। লিগ্যাল এইড অফিসারের মধ্যস্থতায় আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে সর্বমোট ১৮ কোটি ৪৩ লক্ষ ২৪ হাজার ৩২৬ টাকা আদায় করে দেওয়া হয়েছে, যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার একজন বিচারক। যিনি আইনসিদ্ধভাবে কিভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের সহযোগিতা করেন। এর ফলে বিচারপ্রার্থী জনগণ মামলাজটের কবল থেকে কিছুটা হলেও পরিত্রাণ পাবে।

বর্তমানে এসিডদগ্ধ নারী-পুরুষ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা, প্রতিবন্ধী, পাচারকৃত নারী বা শিশু, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা, নৃ-গোষ্ঠীসহ আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার পেতে অক্ষম যেকোন নাগরিককে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থ ব্যয়ে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘দি কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর (সংশোধনী) আইন ২০০৯’ পাশের মাধ্যমে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কাজটিকে স্থায়ী রূপ প্রদান করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রাইবুন্যাল গঠন করে বিচারের জন্য সাধারণ মানুষের চাপ সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা মামলার বিচার সাধারণ আদালতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, সাধারণ আদালতে হবে এবং আদালত যে রায় দেবে আমরা মেনে নেব। আমরা আদালতের রায় মেনে নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সকল জেলায় নতুন করে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব ভবনে লিগ্যাল এইড অফিসের জন্য সুনির্দ্দিষ্ট কক্ষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিচারকদের এজলাস ও চেম্বার সমস্যা সমাধানের জন্য ২৭টি জেলায় জেলা জজ আদালত ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, তার সরকার নির্যাতিত, নিপীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ করেছি। অধঃস্তন আদালতের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিচারকদের বেতন-ভাতাদি দ্বিগুণ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বিশেষ ভাতাও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন নতুন আদালত ট্রাইবুন্যাল স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করেছি। ২০১০ সাল হতে অধঃস্তন আদালতে মোট ১০২৬ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৯৯ জন বিচারক নিয়োগ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে।

তিনি বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় বিচারকদের ওপর সন্ত্রাসি হামলার উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সরকার বিচারকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ১২৮ জন অতিরিক্ত জেলা জজের জন্য ১২৮টি গাড়ি ও ১২৮ জন গাড়ি চালকের পদ সৃজন করেছে।

৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল, ৫টি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইবুন্যাল, ভোলা জেলায় ১টি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্থাপন করা হয়েছে। বিচারকদের গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অধঃস্তন আদালত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণে আইন ও বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫৪০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে অস্ট্রেলিয়ার ‘ওয়েস্টার্ন সিডনী ইউনিভার্সিটি’তে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৮৭ জন বিচারককে এ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভারতের ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমির সঙ্গে অধঃস্তন আদালতের ১৫০০ বিচারকের প্রচলিত আইন ও আদালত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভারতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়ার দু’টি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩২০ জন বিচারক ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। জাপানে ৩০ জন বিচারককে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত আলোকিত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।